[cpb_ticker posts_per_page="10" bg="#FFFFFF" color="#000000" speed="1"]
  • Home
  • খেলাধূলা
  • দারিদ্র্যকে হারিয়ে হাইজাম্পে সেরা উচ্চতায় অলিম্পিকে যেতে চায় হলদিবাড়ির সাগর রায়
Image

দারিদ্র্যকে হারিয়ে হাইজাম্পে সেরা উচ্চতায় অলিম্পিকে যেতে চায় হলদিবাড়ির সাগর রায়

দারিদ্র্যকে হারিয়ে হাইজাম্পে সেরা উচ্চতায় অলিম্পিকে যেতে চায় হলদিবাড়ির সাগর রায়


        বিদ্যুৎ ভৌমিক 

গরিব ঘরেই প্রতিভার জন্ম হয় ।নিজের একাগ্রতার সঙ্গে অক্লান্ত পরিশ্রমের মেলবন্ধনে প্রতিভাকে ঘষেমেজে বাস্তবায়িত করে ক্রীড়াঙ্গনে অনায়াসে সাফল্য তুলে আনা যায় ।সে কারণে এলাকায় ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সঞ্চার করে ।সেখানে আর্থিক অনটন উপেক্ষিত হয়।প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে নিজের সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আবারও প্রমাণ করে স্বীকৃতি পেলেন কুচবিহারের হলদিবাড়ি ব্লকের পারমেখলিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন তিস্তা নদীর লাগোয়া কামাতবিন্দি গ্রামের দুরন্ত নির্ভীক অ্যাথলিট সাগর রায় ।

সূত্রের খবর,কুচবিহারের হলদিবাড়ির তরুণ প্রতিভাবান অ্যাথলিট সাগর বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ হাইস্কুলে দ্বাদশ শ্রেণীতে পাঠরত।তাঁর বাবা প্রদীপ রায় জমিতে কষ্টের সঙ্গে চাষ করলেও ছেলের সাফল্যে তাঁর পরিবারের সদস্যদের আনন্দ আর ধরে না ।সাগরের মা সুশীলা দেবী আদতে গৃহবধূ হলেও ছেলের খেলার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।তিনি ছেলের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন ।জানালেন যে, ২০২৩ সালের ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সুচারু ব্যবস্থাপনায় কলকাতার সাই স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৮ বালক বিভাগে সাগর হাইজাম্প ইভেন্টে প্রথম স্হান অধিকার করে ।এছাড়া ২০২২-২৩ বর্ষে ৬৬তম জাতীয় স্কুল গেমসে রাজ্য দলে সাগর জায়গা করে নেয় ।সেই প্রতিযোগিতায় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে চতুর্থ স্থান পেয়ে পিছিয়ে পড়ে ।এরপর ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতার সল্টলেকের সাই কমপ্লেক্সে আয়োজিত ওয়েস্ট বেঙ্গলঅ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ৭১ তম স্টেট অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব ১৮ বালক বিভাগে হাইজাম্পে সাগর প্রথম স্হান অধিকার করে রাজ্য তথা দেশের সুনাম বজায় রেখেছে।তিনি আরও জানান যে, ছেলেকে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে ।অভাবের তাড়না ছেলেকে বিন্দুমাত্র বুঝতে দিই নি ।ধার দেনা করে আমরা ওর ওড়িশার ভুবনেশ্বরে ন্যাশনাল কম্পিটিশনে খেলতে যাওয়ার খরচ জোগাড় করেছি।সাগরের মা দ্বিধা না রেখে আরও বলেন যে, আমাদের আর্থিক সমস্যা না থাকলে আমার ছেলে হয়ত আরও অনেক দূর যেতে পারতো।কিন্তু ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে আমরা ভীষণ খুশি হয়েছি ।তবে একটা কথা না বলে পারা যায় না যে,সাগর বর্তমানে জলপাইগুড়ি সাই কমপ্লেক্সে প্রশিক্ষণ নেওয়ার দুর্লভ সুযোগ পেতে আমরা অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।ওর প্র্যাকটিস পুরোদমে চলছে।সে কারণে খেলায় উন্নতি ঘটছে ক্রমশ।

একটা সময় সাগর প্রশিক্ষক প্রসেনজিৎ দত্তের কাছে কোচিংয়ে মনোনিবেশ করতেন ।একান্ত অনুগত ছাত্রের এই অভাবনীয় সাফল্যের সংবাদে প্রাক্তন প্রশিক্ষকও বেজায় খুশি ।তিনি নির্দ্বিধায় জানান যে, সাগর শুধু বাকি প্রতিযোগীদের হারায় নি, এই পদক জয়ের জন্য তাকে দারিদ্র্যকেও পর্যুদস্ত করতে হয়েছে ।প্রতিভা ও খেলার প্রতি আনুগত্য ( পড়ুন দারুণ ভালোবাসা ) ওকে আজ এই সাফল্য এনে দিয়েছে ।সেই সঙ্গে আছে লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য কঠিন জেদ আর অক্লান্ত পরিশ্রম।সাগরের বাবা প্রদীপ রায় জানান যে, জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করলে খেলোয়াড়েরা মন পেতে খেলে আরও সাফল্য তুলে আনতে সমর্থ হবে ।কারণ এমনও দেখা গেছে যে, আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে অনেক উজ্জ্বল প্রতিভা হারিয়ে গেছে ।তাতে রাজ্য তথা দেশের ক্ষতি।এ বিষয়ে রাজ্যের যুবকল্যাণ দপ্তর অ্যাথলিটদের স্বার্থে দৃঢ়মুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ক্রীড়াবিদেরা উপকৃত হয়।এর ফলে খেলাধুলোর প্রতি নব প্রজন্ম উৎসাহিত হবে ।খেলায় আগ্রহ বাড়বে।খেলার ময়দান আবার জেগে উঠবে।
ছবি : সংগৃহীত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *